বৃহস্পতিবার  ৩০শে মার্চ, ২০১৭ ইং  |  ১৬ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ  |  ৩রা রজব, ১৪৩৮ হিজরী
174604Meat_busines_kalerkantho_pic

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মাংস ব্যবসায়ীদের বৈঠক রবিবার

বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে আলোচনার ডাক পেয়ে নতুন কোনো কর্মসূচি না দিয়ে আলোচনার টেবিলে দাবি আদায়ের প্রত্যাশার কথা বলেছেন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। একই সঙ্গে নতুন কর্মসূচি না থাকায় আগামী রবিবার ঢাকায় গরু ও খাসির মাংস বিক্রি করা হবে বলেও আভাস পাওয়া গেছে সমিতির নেতাদের কথায়। আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, “শনিবার পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট ছিল। আমরা তা পালন করব। আপাতত নতুন কোনো কর্মসূচি দিচ্ছি না। আমরা আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে। ”

রবিউল জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে রবিবার তাদের বৈঠক। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে দাবি মেনে নেওয়া হবে বলেই তারা আশা করছেন।

তিনি আরো জানান, দাবি মানা না হলে এরপর ধর্মঘট হবে সারা দেশে। আর সব দাবি পুরোপুরি মানলে মাংসের কেজি ৪০০ টাকার নিচে নেমে আসবে বলে আমি আশা করি। আরো কয়েকটি দেশ থেকে ঠিকঠাক মত বৈধ পথে গরু আমদানি করা গেলে এই দাম নেমে আসবে ৩০০ টাকার নিচে।

এ সময় হাইকোর্টে রিট আবেদন করার পর গাবতলী গরু হাটের ইজারাদার ‘অত্যাচার বাড়িয়ে দিয়েছে’ অভিযোগ করে রবিউল আলম বলেন, “বাণিজ্যমন্ত্রী ডেকেছেন, রবিবার সকাল ১১টায় আমরা তার সাথে কথা বলব। রবিবার বেলা ২টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আমাদের ডেকেছে, সেখানেও আমরা যাব। এটা আমাদের পেশা, কোনো সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে বা ক্ষমতা দখল করতে আমরা ধর্মঘটে যাই নাই। ”

রবিউল আলম বলেন, “বৈধপথে নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি করতে হবে। আমাদের দেশে আগে ৬৫ শতাংশ পশু ভারত থেকে আনা লাগত। এখন ৩৫ শতাংশ আনা লাগে। আর আগামী তিন বছর আনতে হবে ৩০ শতাংশ পশু। পশু আনার জন্য আমরা যেন বৈধ পথে টাকা নিয়ে যেতে পারি, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ”

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের দাবি মেনে নিন, তা না হলে ইচ্ছেমত দামে মাংস বিক্রি করার হুকুম দিন। ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে জেল জরিমানা বন্ধ রাখুন। ”

ট্যানারি মালিকদের ‘সিন্ডিকেটের কারণে’ চামড়ার দাম কমে যাওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহাসচিব রবিউল আলম। তিনি বলেন, গরুর যে চামড়া আমরা এক সময় ৪০০০-৫০০০ টাকায় বিক্রি করতাম, সেই চামড়া এখন ২০০-৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। ছাগলের যে চামড়া আমরা এক সময় ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি করতাম, তা এখন ২০-৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

রবিউলের দাবি, অনেক মাংস ব্যবসায়ী ‘রাগ করে’ চামড়া ফেলে দিচ্ছেন, এতে সরকার বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে।

তিনি বলেন, “কুচক্রী মহল আমাদের পকেট কেটে টাকা নিচ্ছে। আর আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহর পর আমাদের কাস্টমাররা রিজিকের ব্যবস্থা করে। কিন্তু পশুর গলা কাটার পাশাপাশি আমরা কাস্টমারদের গলা কেটে টাকা নিচ্ছি, নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে ঢাকা সিটি করপোরেশন, বিএসটিআই সারা দিন ঘোরে, মোবাইল কোর্ট করে, জরিমানা করে। জবাইখানা নাই, আমাদের পশু জবাই করার স্থান নাই, ম্যাজিস্ট্রেট আইয়া কয়- জবাইখানার সিল মারো নাই কেন? কোন যন্ত্রণায় যে আছি… চোখে শর্ষে ফুল দেখছি। ”

রবিউল আলম বলেন, এক সময় মাংস ব্যবসায়ীদের অবস্থা ভাল ছিল। কিন্তু এখন ‘সংসার ছেড়ে পালিয়ে গেছেন’- এ রকম মানুষও আছেন। উপায় না দেখে ধর্মঘট পালন করতে হচ্ছে। কেউ শোনে নাই আমাদের কথা। ৬০০ দরখাস্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে দেওয়া আছে, একটি দরখাস্তও বিবেচনা করা হয় নাই।

প্রসঙ্গত, গাবতলী গরুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাকে অপসারণসহ চার দফা দাবিতে গত সোমবার থেকে মাংস বিক্রেতাদের ছয় দিনের এই ধর্মঘট শুরু হয়। তাদের এই ধর্মঘটের কারণে ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারের মাংসের দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে।