বৃহস্পতিবার  ৩০শে মার্চ, ২০১৭ ইং  |  ১৬ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ  |  ৩রা রজব, ১৪৩৮ হিজরী
DSCF2803

মেঘের দেশ দার্জিলিং এর শেষ পর্ব

এবারের পর্বে দুটি দার্জিলিং এর  ভ্রমণ স্থান ও প্রয়োজনীয় টিপস্ সহ শেষ করবোঃ-

DSCF2781-horz

ঘুম মনাষ্ট্রি

ঘুমন মনাষ্ট্রির ভেতরে রাখা একটি কারুকাজ করা ঘন্টা এবং বুদ্ধ মূর্তি

ঘুমন মনাষ্ট্রির ভেতরে রাখা একটি কারুকাজ করা ঘন্টা এবং বুদ্ধ মূর্তি

ঘুম মনাষ্ট্রিঃ
রকগার্ডেন থেকে  রওনা হয়ে পৌছালাম “সেমটেন চলিং বুদ্ধিষ্ট ঘুম মনাষ্ট্রি” তে। এখানে গৌতম বুদ্ধের একটি সুন্দর মূর্তি আছে। ঘুম মনাস্ট্রিটি হাইওয়ের সাথেই। মূল রাস্তা থেকে সিড়ি দিয়ে কিছুটা নামতে হয়। বেশ সুন্দর একটি বৌদ্ধ মন্দির। শহরের কাছাকাছি বলে টুরিষ্ট বা ধর্মবিশ্বাসী মানুষের আনাগোনা বেশি। ভিতরে গিয়ে বিশাল আর সুন্দর বৌদ্ধ মূতিসহ আরও অনেক আকর্শনীয় বিষয় দেখা হলো। সবাই সকালে এসে প্রার্থনা করে যাচ্ছে। দার্জিলিং শহর থেকে এর দূরত্ব ৭কিঃমিঃ।

DSCF2803-horz

ওয়ার মেমোরিয়াল স্মৃতি স্তম্ভ এবং বীর যোদ্ধাদের তালিকা।

 

ওয়ার মেমোরিয়ালঃ
এরপর আমরা বাতাসিয়ালুপ এ অবস্থিত “ওয়ার মেমোরিয়াল” দেখতে যাই। ৫রুপি দিয়ে টিকেট কেটে ঢুকলাম। ১৯৪৭ এর যুদ্ধের সময় দার্জিলিং এর ৭৬ জন সাহসী বীরযোদ্ধা তাদের এই মাতৃভূমির জন্য প্রাণ দেন। তাদেরই স্মরনে এই ওয়ার মেমোরিয়াল। এখানে আছে ৩০ফুট উচ্চতার ত্রিকোন বিশিষ্ট গ্রানাইটের একটি স্মৃতিস্তম্ভ এবং  ৯ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জের তৈরী একটি ভাস্কর্য ।দাড়িয়ে আছে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে। ১৯৯৫ সালে সবার জন্য এই স্থানটি উম্মুক্ত করে দেয়া হয়।

দার্জিলিংয়ের আরো অনেক দর্শনীয় স্থান আছে, সময় স্বল্পতার কারণে সব দেখা হয়নি। দার্জিলিং ছেড়ে আসার মুহূর্তে মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। এতো সুন্দর জায়গা ছেড়ে আসতে কার ইচ্ছে করে? ইচ্ছে করছিল যদি একেবারে থেকে যেতে পারতাম। কিন্তু এটাতো সম্ভব নয়। শুধু আশার সময় দার্জিলিংয়ের সেই সব পাহাড় আর ঝরনা কে বলে এসেছিলাম- “আবার আসবো, যদি বেঁচে থাকি।”

কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকার শ্যামলী পরিবহন থেকে সরাসরি টিকেট কাটবেন শিলিগুড়ি পর্যন্ত। ভাড়া নিবে ৩০০০টাকা (যাওয়া-আসা)।
শিলিগুড়ি বাস স্ট্যান্ড থেকে  দার্জিলিং গামী জিপ পাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া ১০০-১২০রুপি।

এছাড়াও বিভিন্ন বাস বুড়িমাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত যায়। সেখান থেকে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে লোকাল কোন বাস চেপে যাওয়া যায় শিলিগুড়ি। তবে ঝামেলা থেকে বাঁচতে শ্যামলী পরিবহনে সরাসরী যাওয়া ভালো।

কোথায় উঠবেনঃ

দার্জিলিং এ প্রচুর হোটেল আছে আর ভাড়া ৫০০ রুপি থেকে শুরু হয়েছে। দেখেশুনে আপনার বাজেট অনুযায়ী হোটেল নিতে পারেন।
বাংলাদেশীদের জন্য কম খরচে দার্জিলিং ভ্রমণ অনেক রোমাঞ্চকর।

জেনে রাখা ভালোঃ
֍দার্জিলিং যাওয়ার সময় অবশ্যই চেংড়াবান্ধা বর্ডার (ভারতের) থেকে ডলার কে রুপিতে পরিবর্তন করে নিবেন। কারণ দার্জিলিং শহরে ডলারের রেট পাবেন কম।
֍দার্জিলিং যাওয়ার সময় অবশ্যই সাথে অতিরিক্ত ৬/৭ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং ভিসা সহ পাসপোর্টের কয়েক কপি ফটোকপি  করে নিবেন। কারণ হোটেল ভাড়া নিতে এবং মোবাইলের সিম কিনতে এগুলো লাগবে। এগুলো ছাড়া সমস্যায় পড়বেন।

লেখা ও ছবিঃ  মোঃ মহসীন